ব্রেকিং নিউজ: দীর্ঘ অপেক্ষার পর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের আপডেট দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদকেই প্রথম ধাপে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো নির্দিষ্ট ভোটের তারিখ চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ধাপভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে চলতি মাসেই তফসিল ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নভেম্বরের শুরুতে ভোট আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এবার দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদে একদিনে ভোট নেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশন ব্যয় সংকোচনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের ইউপি নির্বাচন একসঙ্গে সব ইউনিয়নে না করে পর্যায়ক্রমে আয়োজন করা হবে। ফলে কোন জেলার বা উপজেলার ইউনিয়নে প্রথম ধাপে ভোট হবে, সেটি তফসিল প্রকাশের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচন উপজেলাভিত্তিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ কোনো একটি উপজেলার আওতাধীন নির্বাচনযোগ্য ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে একই সময়ে ভোট আয়োজন করা হতে পারে।
এতে নির্বাচন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং নির্বাচনী সামগ্রী ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে বলে মনে করছে কমিশন।
ইউপি নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নির্বাচনের তফসিল। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই তফসিল দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধির নতুন গেজেট প্রকাশ করেছে। ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ‘ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
অর্থাৎ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি এগিয়ে যাচ্ছে। এখন মূল অপেক্ষা হচ্ছে আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরের শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে। তবে এটিকে এখনো চূড়ান্ত ভোটের তারিখ বলা যাবে না।
কারণ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটের তারিখ পরিবর্তনের সুযোগ থাকে। তফসিল ঘোষণার পরই মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানা যাবে।
দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। তবে সব ইউনিয়নে একই সময়ে নির্বাচন হবে না। যেসব ইউনিয়ন নির্বাচন উপযোগী, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে ভোটের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে কমিশন।
এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছিলেন, বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন। তিনি সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে তফসিল দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন।
ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা স্থানীয় পর্যায়ে জনসংযোগ বাড়াচ্ছেন এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ায় ইউনিয়ন পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় ‘ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা’ বলে পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো নির্দিষ্ট ভোটের দিন ঘোষণা হয়নি; সেপ্টেম্বর মাসে তফসিল এবং নভেম্বরের শুরুতে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে প্রস্তুতি চলছে।
তাই কোনো নির্দিষ্ট তারিখকে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণা হিসেবে প্রচার করার আগে আনুষ্ঠানিক তফসিলের জন্য অপেক্ষা করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরেই তফসিল দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং নভেম্বরের শুরুতে প্রথম ধাপের ভোট আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে। নির্বাচন হবে ধাপে ধাপে এবং উপজেলাভিত্তিকভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে চূড়ান্ত ভোটের তারিখ জানতে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তফসিল প্রকাশের পরই জানা যাবে কোন ইউনিয়নে কখন ভোট হবে, মনোনয়ন জমার শেষ দিন কবে এবং ভোটাররা ঠিক কোন তারিখে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন।